গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুপেয় পানির অভাব, রোগী সাধারণের ভোগান্তী চরমে

মেহেরপুর প্রতিনিধি :

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুপেয় পানির অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে রোগী ও তার স্বজনদের ভোগান্তী চরমে পৌছেছে। এসব কেউ দেখার নেই।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীরা যেমন স্বাস্থ্য সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। ৪ তলা বিশিষ্ট হাসপাতালে রোগীদের ওয়ার্ড হওয়ায় রোগী ও তাদের স্বজনরা ৪ তলা সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে সুপেয় এবং নিরাপদ পানি পেতে হাসপাতাল থেকে কমপক্ষে ১শ’গজ দূরে পানি নিতে হয়। মাঝে মধ্যেই নানা বিষয় নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।কিন্তু সুপেয় পানি পাওয়ার কোন নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।একদিকে সাধারন রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা নিয়েতো অনেক অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের মাঝে নিম্ন মানের খাবার দেয়া হয়ে থাকে। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক জানান, বাংলাদেশের কোথাও ৪ তলায় রোগীদের থাকা ওয়ার্ড করা হয়নি। অথচ গাংনীতে একটি সুবিধাবাদী চক্রের কারনে ঠিকাদারকে ম্যানেজ করে ৪ তলায় রোগীদের জন্য ওয়ার্ড করা হয়েছে । এটা গাংনীবাসীর জন্য দুঃখজনক। বাওট গ্রামের রোগীর স্বজন খাদিজা খাতুন জানান, খাওয়ার জন্য পানি সংগ্রহ করতে হাসপাতাল থেকে নেমে কমপক্ষে ১শ.গজ দূরে সুজন উকিলের বাড়ির সামনে এবং উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে থেকে বোতলে বা জগে করে পানি সংগ্রহ করতে হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় পানি নিয়ে আসতে মহিলাদের ভয় ভয় লাগে। রোগী ও তাদের স্বজনদের কষ্টের কথা ভেবে গত বছর মাননীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য পানির ফিল্টার দেয়া হয়েছিল। ঠিকমত ব্যবহার না করায় সেটি নষ্টের উপক্রম হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. আহমেদ রায়হান শরীফ জানান,আমি নতুন এসেছি। রোগীদের কথা ভেবে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। এব্যাপারে মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের মাননীয় সাংসদ সাহিদুজ্জামান খোকন জানান, পানির সমস্যার কথা আমাকে কেউ জানাইনি। কর্মকর্তার সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সম্প্রতি আকস্মিক পরিদর্শনে এমপি মহোদয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্য সেবা দিতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

Related posts