চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে হবে

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

গত কয়েকদিনের জাতীয় প্রায় সব দৈনিকের প্রধান শিরোনামে জায়গা দখল করে রয়েছে আগাম পাহাড়ি ঢল, বন্যা, অতিবর্ষণের খবর। সে সাথে সিলেট হাওর অঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল ভেসে যাওয়ার দৃশ্য। সঙ্গে ছিল হাওরের মাছ ও হাঁসের মড়ক। পানির সঙ্গে ইউরেনিয়াম মিশ্রণের শঙ্কাবিষয়ক সংবাদগুলোও বাদ যায়নি। এই রেশ কাটতে না কাটতেই হঠাৎ শিরোনাম হয়ে এলো বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ার সংবাদ। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে ধানের বাম্পার ফলন হচ্ছে। ফলে বিদেশ থেকে চাল আমদানিনির্ভরতা কমেছে। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে এমনকি দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করে বিদেশে চাল রফতানি করার মতো সম্ভাবনা উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়ে উঠছিল। কিন্তু আগাম প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবারের বোরো ধানের বাম্পার ফলনের পথে বাধা হয়ে ওঠায় কিছুটা হলেও তা জাতীয় জীবনে প্রভাব ফেলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক ভাবে চালের দাম বেড়ে যাওয়ার মতো কোনো কারণ ঘটেনি বলেই অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। ইতোমধ্যে সরকারের দায়িত্বশীল মহল থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, হাওর অঞ্চলের বোরো ধান ডুবে গেলেও সরকারের যথেষ্ট মজুত রয়েছে এবং দেশে খাদ্য সংকট হবে না। এছাড়া বোরো ধানের ঘাটতি দক্ষিণাঞ্চলে বোরো ধান উঠলে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিভিন্ন মহলের অভিজ্ঞজনরা। কিন্তু গণমাধ্যমে প্রচারিত-প্রকাশিত সংবাদের সঙ্গে সরকারি ভাষ্যের সামঞ্জস্য পাওয়া যাচ্ছে না। বরং নিয়ম করেই প্রায় প্রতিদিন চালের দাম বাড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে বিশেষ করে দরিদ্র, নিম্ন আয়ের মানুষ এমনকি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের জন্যও তা আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠছে। খুব শিগগরিই এসব চালের দাম কমবে এমন কোনো সম্ভাবনা নেই বরং আরো বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। চালের আমদানি প্রায় বন্ধ থাকা এবং হাওর এলাকায় ফসল নষ্ট হওয়ার কারণে আগামী দিনে চালের সরবরাহ কিছু কম হওয়ার তথ্যের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবে চালের বাজারে টান পড়েছে বলেই দাম এত চড়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ যে কোনো সময় ঘটতেই পারে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তন তা আরো অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছে। তবে আপদকালীন সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যেই সরকারি ভাণ্ডারে খাদ্যপণ্যের মজুত রাখা হয়। সরকার এ ক্ষেত্রে জনগণকে আশ্বাস দেয়ার চেষ্টা করলেও ইতোমধ্যে কতিপয় ব্যবসায়ী দুর্যোগকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লোটার অপচেষ্টায় তৎপর হয়ে উঠেছে। এতে যে শুধু সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে তা নয়, সরকারের জন্য তা বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। সুতরাং সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মহলকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো মহল যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত সংকটকে ব্যবহার করে চালের বাজার অস্থিতিশীল করে তুলতে না পারে সে ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

Related posts

Leave a Comment