জনগণকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে সরকার

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ তুলে বলেছেন, জনগণকে বাদ দিয়ে সরকার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে হলি ফ্যামেলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলকে দেখার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, সরকার সুবর্ণজয়ন্তীটা পালন করছে জনগণকে বাদ দিয়ে। জনগণ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই সুবর্ণজয়ন্তীর যে অনুষ্ঠানগুলো তারা করছে এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো অবস্থান নেই। এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোরও কোনো অবস্থান নেই। শুধুমাত্র বিদেশি মেহমানদের নিয়ে এসে এখানে দেখানো হচ্ছে, বলানো হচ্ছে যে, আপনার উন্নয়নের লৌহরি বয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ভারত, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের প্রতিবেশী চারটি বন্ধু দেশ এসে গেছেন। তাদের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী এসেছেন এবং আগামী ২৬ মার্চ আমাদের বন্ধু দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসবেন। আমরা সবসময় বলে এসছি যে, আমরা সমসময়ই আমাদের দেশে বিদেশি বন্ধুদের স্বাগত জানাই এবং সুবর্ণজয়ন্তীতে অবশ্যই আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাব।
দলের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বিএনপি সারা বছরব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সেই কর্মসূচিগুলো পালন করছি। কিন্তু দুভার্গ্যক্রমে গত ১৭ তারিখ থেকে এই সুবর্ণজয়ন্তী ও বর্ষ পালন করার কারণ দেখিয়ে এবং বিদেশি মেহমানরা আসবেন সেই কারণ দেখিয়ে আমাদের কর্মসূচিগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মানুষের চলাচলে বাধার সৃষ্টি করা হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী এখানে কী সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে আসছেন নাকি পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভার নির্বাচনী প্রচারণা করতে আসছেন– এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, পশ্চিম বাংলার পত্রিকাগুলো, ভারতের পত্রিকা, আমাদের দেশের পত্রিকাগুলোতে সেই ধরনের ইঙ্গিতই আমরা পাচ্ছি। মূলত তার (নরেন্দ্র মোদি) এই ভিজিটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সেই সমস্ত মন্দিরগুলো পরিদর্শন করবেন যেই সমস্ত মন্দিরগুলোতে তাদের যে অনুসারী রয়েছে, তাদের যে ভোট পশ্চিম বাংলায় রয়েছে সেই ভোটের জন্য তিনি চেষ্টা করছেন। এটা পত্র-পত্রিকায় লেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর হয়েছে। দুর্ভাগ্যক্রমে ৫০ বছর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক যে অধিকার তা হারিয়ে ফেলেছি, আমরা আমাদের মানুষের অধিকারগুলো হারিয়ে ফেলেছি। এখানে যে পরিস্থিতিতে সরকার দেশ পরিচালনা করছেন সেটি কোনোমতেই গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক নয়, সংবিধানকে তারা সংরক্ষণ করছেন না, এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বরাবরই বলে এসছি যে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও উন্নত করতে হলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে অভিন্ন নদীগুলো রয়েছে তার হিৎসা মীমাংসা হওয়া উচিত, সীমান্তে হত্যা বন্ধ হওয়া উচিত। কানেকটিভিটিতে আমার কী লাভ হচ্ছে সেটা জনগণের কাছে স্পষ্ট হওয়া উচিত। এই কথাগুলো আমরা বরাবরই বলে আসছি। পানির কোনো রকমের সমস্যা… তিস্তা নদীর চুক্তি হচ্ছে না, ফেনী নদীর পানি একতরফাভাবে নিয়ে গেছে। সেতুও তৈরি হচ্ছে কানেকটিভিটিতে। অথচ আমাদের মৌলিক সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হচ্ছে না। আমরা এখনো প্রত্যাশা করি, বাংলাদেশ সরকার আমাদের দাবিগুলোকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করে আমাদের কোটি কোটি মানুষের সমস্যার সমাধান করবেন।
দুপুর ১২টায় হাবিব-উন নবী খান সোহেলকে দেখতে যান মহাসচিব। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দলীয় কর্মসূচির সময়ে পুলিশি হামলায় সোহেল গুরুতর আহত হন। পরে তার দেহে অস্ত্রোচারের জন্য এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার সর্বশেষ অবস্থার খোঁজ-খবর নেন।
এ সময় বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

Related posts

Leave a Comment