মানসম্মত শিক্ষায় জোর দিতে হবে

গত রোববার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে । এতে ৮টি সাধারণ বোর্ডের গড় পাসের হার ছিল ৬৬.৮৪ শতাংশ।  এ ছাড়া, মাদ্রাসা, কারিগরি ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট মিলে মোট গড় পাসের হার ৬৮.৯১ শতাংশ। এ দুটুই গত বছরের তুলনায় ৫.৬৩ শতাংশ কম এবং গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিন্ম। এবার জিপিএ-৫ ও পাসের হার দুটোই কমেছে। প্রশ্ন হল, এটা কি সার্বিক বিচারে ফল বিপর্যয়, নাকি এটাই বাস্তব ও মানসম্মত ফল? যেসব কারণে এবার পাসের হার কমেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- নতুন পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন, কুমিল্লা বোর্ডের ফল বিপর্যয়, কয়েকটি বোর্ডের ইংরেজিতে পাসের হার কমে যাওয়া এবং এমসিকিউ অংশে অনেক শিক্ষার্থীর পাস করতে না পারা। দুর্ভাগ্যজনক, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষার্থী ও ভালো রেজাল্টধারী তৈরির ওপরই বেশি জোর দেয়া হচ্ছে, শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যৎ মেধাবী প্রজন্ম তৈরিতে নয়। এর পেছনে যেমন সরকারের বাহবা-কর্তৃত্ব নেয়ার প্রবণতা দায়ী, তেমনি দায়ী বাবা-মা ও অভিভাবকদের কেবল ভালো ফলের প্রত্যাশা। আমরা মনে করি, কেবল ভালো ফল নয়, শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে, জীবন সম্পর্কে তাদের বোধ কতটুকু তৈরি হচ্ছে সেটা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। এটা তো অজানা নয়, ভালো মানের শিক্ষা ও পাঠদানই ভালো ফল বয়ে আনবে।
নতুন পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়নের কারণেই কয়েক বছর ধরে এসএসসি ও এইচএসসিতে ফল ওঠানামা করছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি যথাযথ হতে হবে, এতে দ্বিমত পোষণের কোনো সুযোগ নেই; কিন্তু কেবল মূল্যায়নে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না, শিক্ষাদান পদ্ধতির আমূল সংস্কার করতে হবে। শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী ১২ বছর পড়ার পরও একটি ভাষায় কেন ফেল করবে? কেন গোটা শিক্ষাজীবন শেষ করার পরও ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটা বিদেশি ভাষায় শুদ্ধভাবে কথা বলা, লেখার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে না আমাদের শিক্ষার্থীরা- এসব বিষয় খতিয়ে দেখে পাঠদান পদ্ধতি পরিবর্তনের সময় এসেছে।  এক ইংরেজির কারণেই আমাদের পাসের হারে ক্রমান্বয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
তাই  ত্রুটিপূর্ণ পাঠদান পদ্ধতি থেকে বের হতে হলে খাতা অতিমূল্যায়ন, অবমূল্যায়ন, পাসের হার ও জিপিএ-৫ বাড়ানো-কমানোর কৃতিত্ব নিয়ে বাগাড়ম্বর না করে শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে তা থেকে উত্তরণে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।

Related posts

Leave a Comment