কুয়াশার আঁচল

-কাজী মোঃ হাসান (ঘটনাটা আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগের। তখন মোবাইল তো দূরের কথা, অনেকের বাসায় টেলিফোন পর্যন্ত ছিলো না। তখন চিঠিই ছিলো দূরের বন্ধুদের সঙ্গে মনের ভাব প্রকাশ করার একমাত্র মাধ্যম। তখন যাতায়াতের মূল মাধ্যম ছিলো বাস, রিক্সা। ধনীরা চলতেন তাদের নিজস্ব গাড়ীতে। আর শতকরা আশি জন মানুষ চলাচল করতো পায়ে হেটে। ) আজ বিজয়া। সরকারী ছুটি। ভার্সিটিও বন্ধ। ছুটি কাটাতে গ্রামের বাড়িতে এসে শুয়ে বসে, নভেল পড়ে অথবা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটছে। অফুরন্ত সময়। আজও নজরুলের রিক্তের বেদন পড়তে পড়তে বিকেল তিনটা ছুঁই ছুঁই। এমন…

প্রিয়তম

-বাতেন বাহার চোখ যার কবিতার উপমা ও ভাষামন যার নীলিমার ঘন নীল আশাজীবনের গতিময় বাণী যার মুখেতার কথা সততই বাজে প্রিয় বুকে। বুকে যার মমতার অফুরান গানগানে প্রেম ভালোবাসা প্রীতি প্রতিদানসাগরের মতো যার অসীম হৃদয়চিরদিন বাজে তার অমলিন জয়। সততার পাঠ যার বুকের গভীরহিমালয় সম তার সদা উঁচু শিরতাই কথা কাজে যিনি হিমালয় সমঘরে ঘরে চিরদিন তিনি প্রিয়তম। (কিশোর বেলার মাকে-পৃষ্ঠা-৩৬)

সাহিত্যে নোবেল পেলেন তানজানিয়ার আব্দুলরাজাক

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার: সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ২০২১ পেয়েছেন তানজানিয়ার আব্দুলরাজাক গুরনাহ। বৃহস্পতিবার সুইডিশ অ্যাকাডেমি নোবেল বিজেতা হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে।প্যারাডাইস নামে তার চতুর্থ উপন্যাসের জন্য তিনি এ সম্মাননা পেয়েছেন ।ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, আব্দুলরাজাক গুরনাহর আপোষহীন ও সহানুভূতিপূর্ণ লেখায় ঔপনিবেশিকতার দুর্দশা আর শরণার্থীদের জীবনের নানা কষ্ট-ব্যাঞ্জনার গল্প ফুটে উঠেছে।আব্দুলরাজাক গুরনাহ ১৯৪৮ সালে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জাঞ্জিবার দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬০ এর দশকের শেষের দিকে তিনি শরণার্থী হিসেবে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। এখন পর্যন্ত তানজানিয়ার এই সাহিত্যিক ১০টি উপন্যাস এবং কয়েকটি ছোট গল্প লিখেছেন। শরণার্থীদের জীবনের পরতে পরতে যে…

আত্মহত্যা!

-কাজী মোঃ হাসান দোহাই তোমার এভাবে ধ্বংস হয়ে যেও না,জানোই তো আত্মহত্যা মহাপাপ!মদ গাঁজা এসব ছাই ভস্ম আর খেওনা,জীবনকে ফাঁকি দিতে দিওনা কো ঝাঁপ।নিজকে ভালবাসতে শেখো ভালো জানতে শেখোস্রষ্টার সৃষ্টিকে করোনা অপমান। তুমি কোথায় লুকোতে চাও আত্মহত্যার ছলে,কি পাপ তোমার, কেন বেছে নিলে এ পথ?ওই নরাধম কুকুরগুলো ধর্ষণ করেছে বলে?এ লজ্জা তোমার, না, সমাজে যারা তথাকথিত সৎ?ঘুরে দাঁড়াও প্রতিবাদ করো সাজা দিয়ে ছাড়োসাবধান, জীবনকে করোনা অবসান! জীবনের ইতি টেনে পরপারে গেলে কোন হতাশায়?প্রয়োজনীয় সব জ্ঞান মজুদ আছে ভেতরে তোমার।ভাবছো- তুমি কুৎসিত খোড়া অন্ধ, এ কি তোমার দায়?শুধু সিদ্ধান্তটা নাও, তারপর…

ভাবনা বিলাস

-কফিলউদ্দীন ভূয়া মানুষের মাঝে থাকেই কিছু ভাবনা বিলাসযদিও ভাগ্য তাকে করে পরিহাস। জীবনে আধো ঘুম আধো জাগরণেভাবনার কলি ফোটে অতি সঙ্গোপনে।ফুলের পরশে এলে মানুষের মনে কবিতা জাগেবসন্ত এলে বনে সকলের জীবনে কোকিল ডাকে। সুরের বাঁধনে বেসুরো জীবনে জাগে আনন্দধারাগভীর নিশীথে দূরের বাশিতে করে তাকে আত্মহারা।একাকী নির্জনে ভরা নদীর কলতানে প্রাণমন করে উচ্ছলসুজন মাঝির গানে ভাটিয়ালী সুরের টানে আঁখি করে ছলছল। খোলা জানালায় মধু জোছনায় হদয় কোথায় হারায়সৃষ্টির গৌরবে মনভরে বৈভবে মনের আঁধার পালায়।প্রেয়সীর খুশির ঝিলিক জ্বেলে দেয় তার প্রাণের মানিক একান্তক্ষণেসাঁঝের বলাকা ছুটে চলে আঁকাবাঁকা আপন নিবাসের টানে। উদাস প্রেমিকের…

সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ আর নেই

শুভদিন অনলাইন রিপোর্টার: প্রখ্যাত সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ আর নেই। রোববার তিনি পরলোকগমন করেছেন। রোববার রাত ১১টা ২৫ মিনিটে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।চলতি বছর এপ্রিলে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন বুদ্ধদেব গুহ। দীর্ঘ হাসপাতালযাপনের পর সুস্থ হয়ে ফিরেছিলেন। চলতি মাসে শুরুতে ফের দেখা দেয় শারীরিক জটিলতা। শ্বাসনালি ও মুত্রথলিতে সংক্রমণ নিয়ে গত ৪ অগাস্ট তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। চার চিকিৎসকের বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চলছিল চিকিৎসা। তবে চিকিৎসায় তেমন সাড়া দিচ্ছিলেন না তিনি। স্থানান্তর করা হয়েছিল আইসিইউতে। রোববার রাতে সেখানেই মৃত্যু হয় তার।১৯৩৬ সালের ২৯ জুন কলকাতায়…

কৃষকের বাড়ি

-বাতেন বাহার উত্তর পশ্চিম কোণে বাঁশঝাড়দক্ষিণে নারিকেল গোটা দুই চারপাশে নিম আম কাঠালের গাছপূবে নানা তরকারি পুকুরেতে মাছ। পশ্চিমে দরকারি ওষুধির চারাতার পাশে গো-শালা ও খরকুটো নাড়াউঠানের উত্তরে কৃষকের ঘরতার পিছে পুরাতন তিনটি কবর। সব শেষে পয়োনালা তারপর ডোবাডালিমের পাশে বেল এ বাড়ির শোভা।উঠানের এক কোণে দামি ফল গাছেমৌমাছি বাসা বেঁধে এক জোটে নাচে। পূবের পুকুর ঘেঁষে ফসলের মাঠতারপর ছোট নদী পাড়ে ছোট হাটমাঠে ফলে ধান গম রাই তিষি তিলকোন দিন কোন জমি থাকে নাতো খিল। ধান কাটা শুরু হয় যেদিন প্রথমকাজে কাজে ফাটে যেন কৃষাণীর দম।কৃষাণীর মনে তবু ওড়ে…

শরৎ বাবুর ন্যাড়া

নিতান্ত খেয়ালের বশেই শরৎ বাবুর ন্যাড়াকেনিয়ে এসেছিলাম ফুটপাত থেকে।নোংরা, চামড়া ছোলা, কদাকার, শ্রীহীনছোটবেলার শখটা এখনো বেঁচে আছে তো!তাই এ কাণ্ড! বলতে গেলে স্রেফ পশু প্রীতিহয়তো কিছুটা প্রভুত্বের দাপটও ছিলো মনের ভেতর,তার সাথে চোর-ছ্যাঁচড়দের হাত থেকে বাঁচারনিচ্ছিদ্র আশ্রয়ের আশ্বাস। দুধ কলা খেয়ে ক’দিনেই ন্যাড়ার শরীরেবসন্তের দাপটশিক্ষকদের চেষ্টা চাতুর্যে চৌকস নাঙ্গা তলোয়ারশত্রু নিধনে সদা প্রস্তুত ধারালো নখর,তাই রপ্তানি মেলায় তার প্রচন্ড কদর।এখানেই ন্যাড়াকে উপাধি দেয়া হয় -‘টম’! ইদানিং টমের খাবার তালিকায় গোশত ওসুস্বাদু খাবারের বাড়াবাড়ি।এখন প্রায়ই জিহ্বা চাটতে চাটতেতৃপ্তির ঢেকুর তুলে বুকের ভেতর,রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করলে বন্ধুরা ভয়ে কাঁপেসালাম দেয়, টম খুশিতে লেজ…

জীবন সাথীর স্মরণে

-কফিলউদ্দিন ভূইয়া এই সেদিনও একটা খেলাঘর ছিলো আমার অঙ্গনেএখানে শান্তির দোলা ছিলো স্নিগ্ধ সমীরণেআমার উদয়াচল আমার অস্তাচলআমার স্বপ্নপুরী আমার সাতমহলকোথায় সব মিশে গেলো? এখানে একটা বাগান ছিলোছিলো বেলী, কামিনী, হাস্নাহেনা গন্ধরাজআরো কিছু নির্গুন কিংশুক ছিলোকোথায় হারালো আজ? এখানে একটা বিশাল চাঁদোয়া ছিলোবর্ণিল এক আলোকমালায় ভরানো ছিলোআমার সিংহাসন আমার শিরোতাজকোথায় হারালো আজ? এখানে একটা তপোবন ছিলোমৌণ সন্নাসীর ধ্যান মগ্নতা ছিলোআবার কখনো রাতের নিরবতা ভেঙ্গেডাহুক ডাহুকি সুধাতো ডেকে ডেকে একে অপরকে-ঘুমিয়ে গেছো নাকি?সেই আধো ঘুম, আধো জাগরণ –সেদিনের সেই সে স্মরণযেনো সুবিশাল স্মৃতির বারিধির বুকে এক দীঘ সন্তরণকোথা থেকে কী হয়ে গেলো?…

লকডাউন

-কাজী মোঃ হাসান ‘ভোগাস মার্কা’ লকডাউনে জীবন ওষ্ঠাগত,কাজের কাজ হয়না কিছুই বাড়ছে শুধু ক্ষত।অর্থনীতির দোহাই দিয়ে থাকছে সবই খোলা,বাধ্য হয়েই ছুটছে মানুষ মাথায় নিয়ে ঝোলা। পরিবহন বন্ধ হলেও যেতেই হবে কাজে,উপায় খুঁজতে পকেট উদাম হচ্ছে ভাজে ভাজে।হাসপাতালে যাওয়ার পথেও হচ্ছে জরিমানা,টু-পাইস দিলে জায়েজ সবই নেই যে কোন মানা। চারিদিকেই ধান্দাবাজি লুটপাটের এক খেলা,কাঁদছে শুধু মধ্যবিত্ত যায়না রে তার বেলা।ছাত্র-শিক্ষক সবাই বেকার বন্ধ লেখাপড়া,মোবাইল টিপে চলছে তবু শ্রেষ্ঠ মানুষ গড়া! সুযোগ বুঝে করনাটায় বেজায় রকম তেড়ে,একে একে হাজার লোকের নিচ্ছে জীবন কেড়ে।কোনমতেই করোনাটায় মানছে না তো পোষ,বিশ্বটাকে কাঁপিয়ে দিয়ে করছে রে…